Compliance Sheba

রপ্তানী উন্নয়নে ডেটা কিভাবে প্রতিষ্ঠান কে সাহায্য করতে পারে।

আমাদের দেশে অনেকগুলো মিলিয়ন ডলার কোম্পানি আছে যাদের কোন ইআরপি নাই। এবং তাদের এই সফলতায় কখনো ইআরপি, ডেটা এনালাইসিস, আইটি অবকাঠামো, ডায়নামিক রিপোর্টিং ইত্যাদি সকল কিছুর কোন প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু সারা বিশ্বের ব্যবসা বাণিজ্যের ধারা প্রতিনিয়ত আমূল পরিবর্তিত হচ্ছে । ২০২২ এর শুরুতে ও আমরা কেউ জানতামনা যে চ্যাট-জিপিটি, মিডজার্নির মত কত শত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন টুলস আমাদের সকল আলোচনার মোড় পরিবর্তন করে দিয়ে যাবে। ডেটা প্রতিদিন জ্বালানি তেল এর চেয়ে ও অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আমার দেখা মত ১৫০ এর বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন টুল এখন পর্যন্ত আমাদের ব্যবসায়িক আধিপত্যের অংশীদারিতেই ভাগ বসানো শুরু করেছে, কিন্তু আমাদের দেশ বারবার এই দৌড়ে পিছিয়েই ছিল এবং কেন থাকছে। এবং এর পরে ও দেশের রপ্তানী বাণিজ্য ও বাড়ছেই বা কেন? ডিজিটাল বাংলাদেশ আন্দোলন নিয়ে সরকার তো অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ ও গ্রহণ করছে কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠান বা পারিপার্শ্বিক ব্যবস্থা কেন এখনো ডিজিটাল করে তুলতে পারছিনা। এবং ধীর লয়ে যতটুকুই কাজ হচ্ছে তা দিয়ে ও তো মূলত দৈনন্দিন জীবন থেমে থাকছেনা।

একটা বিষয় খুব অকপটে বলতে পারা যাবে যে, ইআরপি নাই, তার মানে আপনার ব্যাবসার প্রয়োজনীয় ও জরুরী তথ্য উপাত্ত কারো কাছেই নাই। আপনার প্রতিষ্ঠানে মূলত ডিজিটাল পদযাত্রা আপনি এখনো শুরুই করতে পারেননি। চলুন একটা পরীক্ষা করে এর প্রমান দেখার চেষ্টা করি, চলতি মাসের অর্ডার কোয়ান্টিটি ৫ জন বিভিন্ন বিভাগের প্রভাবশালী ম্যানেজার কে জিজ্ঞাসা করুন, একটু ভালভাবে খেয়াল করে দেখুন যে সকলেই এক ঘন্টা সময় নষ্ট করে দৌড়াদৌড়ি করে ৫ রকম কোয়ান্টিটির ফিগার খুঁজে বের করে নিয়ে আসবে । কারণ একটাই, ডেটার কোন সংরক্ষণ ভান্ডার আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনাই। সকলে তাদের প্রয়োজন মিটানোর জন্য, পুরোপুরি কমফোর্ট লেভেলে বসবাস করে খেয়াল খুশি মত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে ডেটা রাখে এবং আদান প্রদান করে। এবং দিনশেষে যেভাবেই হোক কাজ টা কিন্তু সাফল্যের সাথেই হয়ে যাচ্ছে । তাই যন্ত্রনা বাড়ানোর কি দরকার। 

 ইআরপি নিয়ে আমাদের দেশে অনেক মুখরোচক গল্প চালু আছে। এবং এই গল্প, হাসি তামাশার জন্য অনেকেই ডিসিশন নিয়ে ও নিতে পারেনা। অমুক প্রতিষ্ঠানে লোক জন চলে গেছে, তমুক প্রতিষ্ঠানে ইআরপি ব্যার্থ হয়েছে, ঐ ফ্যাক্টরী তো ৯ বছর হল চেষ্টা করে সফলকাম হতে পারেনি ইত্যাদি সকল অজুহাতে যারা এখনো ইআরপি ইম্প্লিমেন্টেশান থেকে দূরে আছেন বা তোয়াক্কা করছেন না তাদের জন্য ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে। আবার ও বলছি যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে মূলত ডিজিটাল পদযাত্রা আপনি এখনো শুরুই করতে পারেননি। অবশ্য আমার মত কেরানীর চোখের ভয়ঙ্কর দিন, কোটিপতির দূরদৃষ্টিতে বাঁকা হাঁসির খোরাক হতে পারে ! তাহলে এত বড় ব্যাবসা, আরও বড় হচ্ছে কেন, তিন দশক তো হয়েই গেল ! ভালোই তো আছি !

ইআরপি ইম্প্লিমেন্টেশনে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্যারের চাহিদা পুরণ করা। আর বড় স্যার যদি দুই বা ততধিক হয় তাহলে চাহিদাও ততধিক হতে থাকবে। কর্তা ব্যক্তি গণ শুধু মাত্র তার নিজের জ্ঞানবুদ্ধির বিচারে সকল কিছু চাহিদা দিতে থাকেন এবং ব্যাপারটা এতটাই তামাশা তুল্য হয়ে পড়েছে যে, যে কোন প্রতিষ্ঠানের বড়কর্তা এই বিষয়টা নিয়ে পুরোপুরি সকল বিষয় গুলোর ইমপ্যাক্ট না বুঝে না বিচার করে, তার নিজের মত করে শুধুমাত্র তার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা চেতনা ও চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে বলে। এই বিষয়ে সফটওয়ারের কোন লিমিটেশন আছে কি না, বিষয়টা আদতে যৌক্তিক কিনা, টিম এর সদস্যগণের কাজটা কে সহজ করছে কি না ইত্যাদি অনেক বিষয় প্রতিষ্ঠানের করতে ব্যক্তির জানার কথা না। কিন্তু তিনি যেহেতু প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তি তাই তিনিই শুধুমাত্র সকল কিছু বুঝবেন এটাই শেষ কথা। আর ও একটা বড় অন্ধত্ব হচ্ছে , আমি যেহেতু এতবড় প্রতিষ্ঠান দাঁড় করতে পেরেছি তাই আমি ইআরপি ইমপ্লিমেন্টেশন ও করতে পারবো এবং আপনাদের ওই ইআরপি ছাড়াও ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারব। এবং সবশেষে ফলাফল হল শুধুমাত্র এই জন্যই তার নিজের প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পদযাত্রা বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে। এবং আরো বেশ কিছুদিন পড়তেই থাকবে। তাই বলে সাফল্য যে থেমে থাকবে এই কথাটা সত্য না। 

ইআরপি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, তারা একটা পরিপূর্ন সলুশ্যন নিয়ে কাজ করেনা, কোন একটা মডিউল কে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত করে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান না, মানে হল আমাদের এই সল্যুশন টাই এই ধরণের সমস্যার একটা স্বীকৃত সমাধান, তাই আপনাকে আমাদের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। আপনি যে ভাবে ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করছেন তা মূলত সঠিক না। আমাদের সল্যুশনটাই আজকে শত শত কোম্পানি ব্যবহার করছে এবং তারা একটা বেঞ্চমার্কিং বা উদহারণ দাঁড় করতে পেরেছে। এই ধরণের যৌক্তিক এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করে যাওয়ার যে একটা প্রবণতা তা আমরা খুঁজেই পাইনা। পক্ষান্তরে বিদেশী সলুশ্যন গুলোতে ঠিক এই ব্যাপারটা আমি খুব ভালভাবে খুঁজে পেয়েছি। ইআরপি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর আর একটা বড় চ্যালেঞ্জ হল বহুদিন প্রেজেন্টেশন দেখানোর পরে অতিকষ্টে ১৫/২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে পারা , যা মূলত নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল টাইপের সেলস। ইআরপি কোম্পানী গুলো মূলত অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার আশংকায় তাই সকল কিছু চাহিদা পূরণ করতে পারবে বলে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। কর্তা ব্যক্তির বা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সকল ধরণের চাহিদা পূরণ করে দিতে পারবে বলে মিটিংয়ে স্বীকারোক্তি করে আসে। তারপর শুরু হয় মূল যুদ্ধ। ইমপ্লিমেন্টেশন মিটিংয়ে ব্যবহারকারী গণের নতুন নতুন চাহিদা আসতে শুরু করে, এবং প্রত্যেকটা চাহিদাই মূলত যৌক্তিক চাহিদা। তখন শুরু হয় নতুন অধ্যায়, নতুন চ্যালেঞ্জ, অপারগতা, ডিসকানেকশন, প্রজেক্ট স্কোপে নাই, মার্চেন্ডাইজার সময় দিতে পারছেনা, প্রোগ্রামার জব ছেড়ে দিয়েছে। আগামী এক মাসের পরে আর একটা নতুন ভার্শন আসছে ওই টাতে এই বিষয়টা সন্নিবেশিত করা হবে ইনশা-আল্লাহ। ইত্যাদি প্রকার সমস্যা আপনারা সকলেই মুখোমুখি হয়েছেন বা অভিজ্ঞতা হয়েছে। 

এই সকল কিছুর পর ও আপনাকে ইআরপি প্র্যাকটিস ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ডেটা ছাড়া কতখানি অচল তা উপলব্ধি করতে না পারলে, আর কিছুদিন অপেক্ষা করেন। প্রতিটা ইন্ডাস্ট্রি ডেটা ড্রিভেন হলে, আমাদের ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবেই। 

আমাদের দেশে ইআরপি ইম্পলিমেন্ট হয় না নিম্নোক্ত কারনে

আমাদের দেশে বা অন্য যে কোন দেশেই ইআরপি ইম্পলিমেন্ট হয় না কেন তা নিয়ে ইন্টারনেট জুড়েই হাজারো লিখালিখি আছে। তবে আমাদের দেশে ব্যাপারগুলো কিভাবে ঘটে তার কিছু কারণ নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে আপনাদের যে কোন আলোচনা সমালোচনা গ্রহণযোগ্য আমার কাছে। 

একটা বাস্তবতা হল মানুষ কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ও কিছুদিন বেচে থাকে কিন্ত সব সময় অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, হাসপাতাল, ডাক্তার, দৌড়াদৌড়ি, খরচাপাতি, টেনশন লেগেই থাকবে! কখন যে কি ঘটে যায় এই রকম একটা আতংক বিরাজ করবেই। হাতে গোনা কয়েকটা কারখানা ছাড়া প্রত্যেকটা কারখানার অবস্থাই মোটামুটি এমন ভাবেই ব্যাখ্যা করা যাবে।  

  • আমাদের অনেকগুলো মাঝে একটা বড় সমস্যা হল আমরা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই বেশি বুঝি, এবং সকল সমস্যার জাদুকরী সমাধান আশা করি। (!)
  • ইআরপি কোম্পানি গুলো সহজে ব্যবহার যোগ্য কোন সহজতর সল্যুশন নিয়ে বাজারে এখনো প্রবেশ করতে পারেননি। হোয়াটসএপ কিংবা টিকটকের জনপ্রিয়তার মূল বিষয়টাই হল পানির মত সহজ ইউজার ইন্টারফেস। যে কোন ধরণের ব্যবহারকারী সহজেই পুরো ব্যাপারটা আয়ত্তে নিয়ে আসতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এখন পর্যন্ত ইআরপি কোম্পানি গুলো এই বিষয়টা নিয়ে এগিয়ে আসেন নি। 
  • আমরা যেমন খুব দ্রুত সকল কিছুর সমাধান চাই, তেমনি দ্রুত হতাশ ও হয়ে পড়ি!
  • আমাদের দেশের একটা পজিটিভ দিক হল বিদেশ ফেরত সন্তানগণ নিজেরাই এই ইআরপির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইআরপি প্রজেক্ট এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক কাজগুলোর সাথে অপরিচিত থেকে অনেকগুলো কাজ ব্যাহত হয়। , মুলত প্রজেক্ট টা ঝুলে যায়। 
  • ক্রেতা গন ক্ষনে ক্ষনে চাহিদা পরিবর্ধন, পরিমার্জন, করতে থাকে, বিক্রেতা কোম্পানি কোন কিছুতেই না বলেনা, তিন মাস পরে রেজাল্ট জিরো !
  • ক্রেতাপক্ষ বিশ হাজার টাকায় আইফোন কিনতে চায়, বিক্রেতা গন বলেন, স্যার, আর পাচটা হাজার টাকা বাড়ায় দিয়েন ! এই গুলোর দাম তো আরো বেশি শুধুমাত্র কোম্পানীর প্রচারের স্বার্থে আপনার জন্য এই মূল্য রাখছি। 
  • সবচেয়ে অথর্ব, অলস, অকর্মা সদস্য টা কে ইআরপি টিম এ পাঠিয়ে দিয়ে ঝামেলা বিদায় করা হয়! উক্ত সদস্য মূলত কোন কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করতেই পারেন না। 
  • আর একটা জটিল সমস্যা হল ইআরপি কেনার দরকার ছিল তাই কিনলাম! আমার টিম তো কাজ করছে এবং আপ্রাণ চেষ্টা করেই যাচ্ছে! এই রকম মানসিকতা থেকে যদি ক্রয় করা হয় তাহলে সমস্যা আরো ঘণীভূত হয়।

ক্ষুদ্র, মাঝারী, বৃহৎ সকল ব্যবসায় ইআরপি কেন লাগবেই !

💡 ডেটা কে নতুন তেল সম্পদ বলা হচ্ছে, এবং এটাই একমাত্র ডায়নামিক তথ্য ও উপাত্তের একমাত্র এর উৎস। 

💡 প্রতিটা প্রসেসে আপনার পরিপূর্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। খালি হাতে আপনি কোনদিন যা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

💡 সকল কিছুতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে, জানা যাবে পরিষ্কার ভাবে। 

💡 একটা মাউজের ক্লিকে আপনি যে কোন প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে পারবেন। অমুকে জানে তমুকে জানে এই প্রাকটিস বন্ধ।  

💡 সকল প্রসেস ভালমতে প্ল্যান করে ভবিষ্যৎ অপারেশন সাজানো যাবে।

💡 প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের ভিতরে শুধু মাত্র সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠা, সঠিক সময়ে আদান প্রদান, আগে থেকে কেন জানালেন না এই সব নিয়ে যে ঝামেলা লেগেই থাকে, তা বন্ধ হয়ে যাবে।

 💡 আপনার প্রতিষ্ঠান কেন ভাল করছিলনা এবং কেন ভাল করবে এইটার জন্য আপনার এনালাইসিস করা প্রয়োজন এবং নির্ভুল এনালিটিক্স আপনাকে ভুল গুলো শোধরাতে সাহায্য করবে। 

💡 টিম মেম্বার কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে আমরা এইটা জানিনা ঐটা জানিনা, একটা গোলক ধাঁধায় পরে যাই, এই সমস্যার সমাধান হবেই। 

💡 উপরের সকল সমস্যার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আপনার উৎপাদন কে বাড়িয়ে দেবে।

💡 সঠিক সময়ে কাজ শুরু করা যাবে তাই ডেলিভারী দেরি হওয়ার প্রশ্নই উঠবেনা। 

💡 চাহিদা ও সরবরাহের ভিতর একটা সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠিত হবে। 

💡 আমাদের মূল সমস্যা খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। 

💡 কাস্টমার স্যাটিস্ফেকশন বাড়বে নিশ্চিত থাকতে পারেন।

ERP টিম বাছাই, গঠন, শুরুর প্রক্রিয়া টাই অন্যতম একটা চ্যালেঞ্জ।

 👎 পদবী, মর্যাদা, স্যারের শ্যালক, শুরুর দিকের এম্পলয়ি, মালিকের ডান হাত ইত্যাদি না দেখে এন্যালিটিক্যাল এবিলিটি, সামর্থ্যবান জ্ঞানের পরিধি ও গভীরতা, বিচক্ষণতা, গ্রহণযোগ্যতা দেখে টীম গঠন করতে হবে।  

👍মনের গভীর থেকে ইন্ডাস্ট্রির সফলতা চায় এবং মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ, দুর্দান্ত নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রজেক্ট ম্যানেজার এর নিয়োগ আপনার প্রজেক্টের সফলতার সবচেয়ে বড় নিয়ামক।  

⚡️ দেখবেন সকলের প্রেজেন্টেশন উপভোগ্য হয়না। কিছু কিছু মানুষের কথা কানে লাগে। ERP টিম বাছাইয়ে টিম মেম্বার দের গ্রহণযোগ্যতা, বাচন ক্ষমতা, আন্তরিকতা, কমুনিকেশন স্কিল সবচেয়ে জরুরী। 

 👍 ইন্ডাস্ট্রী এক্সপেরিয়েন্স এবং যে কোন প্রসেস কে ভেঙ্গে এনালাইসিস করতে পারার জ্ঞান খুব জরুরী। আপনার লজিক পুরো ফ্যাক্টরীর পুরাতন কর্মকর্তা গণ হাসি মুখে মেনে নেবেন এই পরিমান গ্রহণযোগ্য সল্যুশন প্রদানের সক্ষমতা। 

👎 ক্ষমতায়নঃ প্রজেক্টের সকল ডিসিশন নেয়ার জন্য যদি ডাইরেক্টর, এমডি স্যার কে একটু জিজ্ঞাসা করে নেই টাইপের হয় তাহলে আপনাদের ERP এর পিছনে সময় নষ্ট না করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।  

⚡️ সময়ানুবর্তিতাঃ সময়ের কাজ সময়ে করা সাফল্যের চাবিকাঠি ৷ প্রজেক্টের প্রতিটা টাইম এন্ড একশন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যদি পুরো টিম ডেডলাইন অনুযায়ী কাজ শেষ করতে না পারে, প্রজেক্ট ঝুলে যাবেই। 

👍 অভিজ্ঞতাঃ ERP প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ, বটলনেক, ব্যার্থতা, সফলতা কোনটাই আপনার টিমের বা আপনার কখনোই ছিলোনা। তাই আপনাকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ (দরকার হলে ব্যর্থতার দায়ভার নেয়া) পরামর্শক নিয়োগ করতেই হবে। আপনার শত কোটি টাকার ব্যবসাকে গিনিপিগ বানানো এবং অযথা সময় নষ্ট না করে অভিজ্ঞ পরামর্শকের সাহায্য গ্রহণ করুন। সঠিক পরামর্শক খুঁজে বের করা ও অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

ERP প্রস্তুতি পর্বঃ 

👎ERP দরকার সবাই বলছে ! 

👎এইটা ছাড়া তো আর চলেনা। মানসম্মান থাকছেনা ! 

⚡️ অমুক কোম্পানী তো কোটি টাকা খরচ করে ১৫ বছর আগেই ERP নিয়েছে।

⚡️ বিদেশ ফেরত ছেলে ও খুবই জোর দিয়ে বলছে। 

এই সকল কিছু আমলে নিয়ে যারা ERP নিয়েছেন বা নিবেন তাদের সময় নষ্ট না করা ভালো হবে। ERP তে যাওয়ার আগে আপনাকে পরিষ্কার ভাবে বুঝতে হবে, আর একটা বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। নিজে যদি সকল প্রশ্নের উত্তর জানেন, বোঝেন, উপলব্ধি করতে পারেন তাহলে ইনভেষ্টমেন্ট করতে পারেন।  

⚡️ কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আপনি ERP নিবেন ?

 ⚡️ এটা বিগত দুই দশকের কোন কাজ গুলোকে সহজ করে দেবে ?

 ⚡️ কেমন করে সহজ করবে ?

 ⚡️ এক্সেল রিপোর্টে কেন হচ্ছেনা !

⚡️ কতগুলো রিপোর্ট আপনার কারখানা জুড়ে তৈরী করে ? কতগুলো আপনার ও টিমের আসলেই দরকার।

 ⚡️ এত শত প্রকার রিপোর্ট স্ট্যান্ডার্ড কয়েকটা কমন ফরম্যাটে তৈরী করে নিতে পারেন কি না !

 👎 আপনি ও আপনার টিম কি কি রিপোর্ট ERP থেকে চান তা প্রস্তুত করুন এবং পরবর্তীতে হুট্ করে নতুন কোন কিছু চাইবেন না, নিশ্চিত করুন।

 👎 নিশ্চিত করে বলে দিতে পারি, আপনার কারখানায় কোন SOP নাই। প্রতিটা টিম কে বলুন, তাদের SOP তৈরী করে জমা দিতে। প্রজেক্ট টিম কে বলুন সব একত্রিত করে একটা ফরম্যাটে নিয়ে আসতে।

👍ERP তে যাওয়ার এক বছর আগে প্রজেক্ট টিম তৈরী করুন। সকল ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন। As Is Process Analysis করুন এবং পরামর্শক নিয়োগ করুন। 

“There is No One Box Solution”

👎ERP সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারবে, এ ভ্রান্ত ধারণা যাদের আছে, তাদের জন্য এই লেখাটা। মনে রাখবেন কামারের কাজ কুমার দিয়ে করা যায়না।আপনার কারখানা কে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করতে চাইলে নূন্যতম দশ টা টুলসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তার ভিতরে অন্যতম প্রধান টুল হল ERP একটা অনলাইন ডেটা এন্ট্রি সাইট করা মানেই

ERP না ! এনালাইটিক্স, ডিসিশন মেকিং, ডায়নামিক রিপোর্ট সহ আর ও অনেক কিছু থাকতে হবে !

কেউ যদি সকল সমস্যার সমাধান দিতে চায় এবং নিতে চায় তাহলে উভয় পক্ষের আরো অভিজ্ঞতার ও পরামর্শের প্রয়োজন আছ

⚡️যদি লাইন ব্যালেন্সিং, প্রোডাক্টিভিটি এনালাইসিস করতে চান তাহলে ERP থেকে এই জিনিস খুঁজে লাভ হবেনা Industrial Engineering টুল কিনতে হবে।

⚡️ এই স্টাইলের SMV কত এবং কত পিস্ করে প্রোডাক্শন করা উচিত ২৫ মেশিনের লাইনে, তা যদি জানতে চান, তাহলে gsd সল্যুশন কিনতে হবে। ERP এই সার্ভিস ইন্ট্রিগ্রেটেড করে দিতে পারবেনা।

⚡️ মার্চেন্ডাইসিং টিএন্ডএ এনালাইসিস, ক্যাপাসিটি প্লানিং, লাইন প্ল্যানিং যদি খোঁজেন তাহলে চোখ বন্ধ করে fastreact প্লানিং টুল কিনতে হবে। যদি কোন ERP কোম্পানি বলে, আমরা প্লানিং ও করে দিতে পারি তাহলে আমার কিছু কথা আছে।

⚡️ নন প্রোডাক্টিভ টাইম, প্রসেস লস % যদি জানতে চান তাহলে shop_floor_control সিস্টেম কিনতে হবে। এটা ERP এর আওতার বাহিরে। এইভাবে প্রতিটা চাওয়া পাওয়ার সঠিক সলুশ্যন যদি আপনি প্রয়োগ না করতে পারেন, আপনার কারখানার সমস্যা আগামী এক দশকে সমাধান হবেনা।

ইআরপি সিস্টেমে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার। নিয়ে আমার নিজেরই একটা রূপকল্প আছে বা আনাড়ি গবেষণা জাতীয় একটা চিন্তা আছে। আমার মনে হয় মাইক্রোসফট ৩৬৫ কো-পাইলটের মত একটা সলুশ্যন যদি আমাদের কারখানার প্রত্যেকটা কম্পিউটারে ইন্সটল করা থাকত। এবং আমাদের কম্পিউটারে তো সকল ডেটাই আছে। আমরা তো আমাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়েই সেগুলো খুঁজে বের করে, পরিবর্ধন পরিমার্জন করে অন্য মানুষকে সরবরাহ করছি, রিপোর্ট তৈরী করছি, অনেক গুলো তথ্য ঘেটে নতুন রিপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছি। সকল কিছুই কিন্তু আমাদের মনুষ্য বুদ্ধিমত্তা দিয়েই সংগঠিত করছি, আমার এই খুঁজে বের করে প্রস্তুত করার কাজটা যদি চ্যাট-জিপিটি৫ এর মত শক্তিশালী এআই টুল করে দিতে পারে তাহলে তো অনুরূপ এই কাজটাই আমাদের দরকার ইআরপির জন্য। 

ফিক্সড কিছু টেমপ্লেট ডেটা এন্ট্রির কাজটা তো এআই এর জন্য খুব সাধারণ একটা ব্যাপার হতেই পারে! যাই হোক এই নিয়ে পরবর্তী আলোচনা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যে কোন ধরণের ইআরপি সিস্টেম কে আরো কার্যকরী করে তুলতে পারে তাই খুঁজে দেখার চেষ্টা করব।  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেহেতু সারা দুনিয়ার সকল কিছুতেই রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে তাই ইআরপি সিস্টেম নিশ্চয়ই এর বাইরে থাকবেনা। ইআরপি সিস্টেমের গতানুগতিক কাজের বাইরে কিভাবে প্রসেস অপটিমাইজেশন, আর ভালো ভাবে ডিসিশন নেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, এবং সর্পোরি সকল ধরণের দক্ষতা ও যোগ্যতার সাক্ষর রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল গুলো আরো বেশি প্রভাবিত করছে সেটা আপনাকে একটু সময় নিয়ে বুঝতে হবে। 

Courtesy : Mr. Habibur Rahman, Smart Factory 4.0 Consultant

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top