Compliance Sheba

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাঃ কর্মক্ষেত্রে এর ভূমিকা

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence ) এর জনক হিসেবে ধরা হয় ড্যানিয়েল গোলম্যানকে। ১৯৯৫ সালে গোলম্যান কর্তৃক পরিচিতি লাভ করার পর সংশ্লিষ্ট মহলে এটি একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত শব্দ হিসেবে বিবেচ্য হয়ে ওঠে। তুলনামূলকভাবে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর ধারণাটি নূতন; কিন্তু তা শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের আবেগকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করা।

একেবারে সংক্ষেপে, একলাইনে বলতে গেলে- আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বলতে নিজের ও অন্যদের আবেগকে বুঝা এবং তা ম্যানেজ করার ক্ষমতাকে বুঝায়। অন্যকথায় বলা যায়, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে একজন ব্যক্তির সেই মানসিক সামর্থ্য, যার মাধ্যমে সেই ব্যক্তি নিজেকে সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে পারে, আশপাশের অন্যান্যদের সাথে সলফলতার সাথে আচরণ করতে পারে, অন্যকে মোটিভেট করতে পারে এবং স্বীয় অনুভূতির সঠিক বিচার করে প্রতিদিনের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে যথার্থভাবে সাড়া দিতে সমর্থ হয়।

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার উপাদানঃ

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) পাঁচটি উপাদান নিয়ে গঠিত। এগুলো সবই মানসিক উপাদানঃ

আত্ম-সচেতনতা (Self Awareness): আত্ম-সচেতনতা হ’ল আপনার নিজের আবেগ, শক্তি এবং দুর্বলতাগুলি চিনতে এবং বোঝার ক্ষমতা। এটি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার (EQ) একটি মূল উপাদান, যা আপনার নিজের আবেগ এবং সেইসাথে অন্যদের আবেগগুলি বোঝার এবং পরিচালনা করার ক্ষমতা।

স্ব-ব্যবস্থাপনা/আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self–Management/Self–Control): স্ব-ব্যবস্থাপনা/আত্মনিয়ন্ত্রণ মাধ্যমে নিজের আবেগ ও অনুভূতির নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনাকে বুঝায়। নিজের চারপাশের পরিবেশ জেনে নিজের দক্ষতা বিচার করে আচরণ করার ক্ষমতা এটি।

স্ব-উদ্যম (Self–Motivation): স্ব-উদ্যম বা Self Self-Motivation আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। কোনো কিছু করার জন্য নিজের মন থেকে যে তাগিদ অনুভূত হয়, তাকে বলা যেতে পারে স্ব-উদ্যম। সেলফ-মোটিভেশন না থাকলে ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট হওয়া সম্ভব না। নেতিবাচক মনোভাব ঝেড়ে ফেলে নিজে উদ্যমী না হলে অন্যদের সাথেও আচরণ ঠিক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা অসম্ভব।

অন্যকে উপলব্ধি করা (Empathy): এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অন্যকে, অন্যের আবেগ-অনুভূতিকে উপলব্ধির মানে সাধারণভাবে সিম্প্যাথি বলতে যা বুঝায় তার চেয়ে বেশি কিছু। Sympathy কে আমরা সমবেদনা হিসেবে বর্ণনা করি। আর Empathy?– কেউ যখন কারো সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে, তা উপলব্ধি করে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তখন তাকে আমরা Empathy হিসেবে আখ্যা দিতে পারি। মানুষ Sympathy চায় না; চায় কেউ তাকে সত্যিকার অর্থেই বুঝুক। তাই Empathy আর Sympathy এর মধ্যে একটা স্পষ্ট পার্থক্য আছে। আর Sympathy বিষয়টি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায় খুব প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ।

সামাজিক দক্ষতা (Social Skills): সামাজিক দক্ষতা একটি ব্যাপক বিষয়। অনেক ক’টি গুণের সম্মীলন ঘটলেই তাকে সামাজিক দক্ষতা হিসেবে অভিহিত করা যায়। সামাজিক দক্ষতার জন্য সমাজের পরিস্থিতি বুঝতে পারা, অর্থবহ সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, দক্ষ নেটওয়ার্কিং আর অন্যের আবেগকে গাইড করার মতো গুণ থাকা আবশ্যক। অন্যকে প্রভাবিত করার মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব পরিহার করে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে নেতৃত্ব দেয়ার সামর্থ্য কিন্তু সামাজিক দক্ষতার অন্তর্ভুক্ত।

কর্মক্ষেত্রে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা (EI at Workplace):

লক্ষ্যণীয় যে, মাত্র ২৪টির মতো আবেগীয় দক্ষতা কর্মক্ষেত্রের সকল বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলে থাকে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক’টি হলোঃ

> সঠিকভাবে নিজেকে মূল্যায়ন;

> আত্ম-নিয়ন্ত্রণ

> সুস্থ বিবেক বিবেচনা

> খাপ-খাওয়ানো বা অভিযোজন ক্ষমতা

> উদ্ভাবনী বা সৃষ্টিশীল চিন্তা চেতনা

> অঙ্গীকার- সচেতনতা

> কর্ম-উদ্যোগ বা প্রত্যুপক্রম

> রাজনৈতিক সচেতনতা

> আশাবাদী থাকা

> অন্যকে বুঝার ক্ষমতা

> বিরোধ বা সংঘাত ব্যবস্থাপনা

> দলীয় কাজের প্রেরণা

> যোগাযোগ

> পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা … ইত্যাদি ।

আমরা Intelligence Quotient বা IQ এর কথা জানি। ধরে নেয়া হতো- যাদের আইকিউ যতো বেশি তারা জীবনে তত বেশি সফল হয়। সফলতা যেনো আইকিউ-এর হাত ধরেই আসে। কিন্তু এ ধারণার পরিবর্তন এসেছে ব্যাপকভাবে। বৈজ্ঞানিক ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় আজ প্রথাগত আইকিউ ধারণা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। প্রমাণিত হচ্ছে IQ নয়; EQ (EI) এখন বেশি কার্যকর এসব ক্ষেত্রে। গোলম্যানের ভাষায়, “আইকিউ সাধারণত সারাজীবন ধরে স্থিতিশীল থাকে কিন্তু আবেগীয় দক্ষতার (ইকিউ) এর অনেক কিছুই শেখা যায়।“ মনোবিজ্ঞানীদের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে কোচ হিসেবে কর্মক্ষেত্রের মানবসম্পদের মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে।

একজন উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কর্মী তার নিজের তাড়না ভালোভাবে ম্যানেজ করতে পারেন, সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিগণের সাথে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন, যে কোনো পরিবর্তনকে সহজভাবে মানিয়ে নিতে পারেন, উদ্ভূত সমস্যাসমূহের যৌক্তিক সমাধান করতে পারেন এবং সুস্থ রসবোধ কাজে লাগিয়ে চাপা বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে সহজ করে পারষ্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কর্মীগণের অন্যকে বুঝার, অন্যের অনুভূতি উপলব্ধি করার ক্ষমতা থাকে, তারা বিপদ-আপদ ও প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও সবসময় আশাবাদী মনোভাব পোষন করে থাকেন। তাঁরা অন্যকে শেখাতে ও প্রভাবিত করতে পারদর্শী হয়ে থাকেন এবং যে কোনো অভিযোগের কাঙ্ক্ষিত সমাধানে দক্ষ হয়ে থাকেন।

উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কর্মীগণের “চিন্তার স্বচ্ছতা” এবং প্রতিকুল ও স্ট্রেসফুল পরিস্থিতিতে স্থিরতা তাঁদেরকে কর্মক্ষেত্রে top performer এর স্বীকৃতি এনে দেয়। কর্মক্ষেত্রের অনেক বিষয়ে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) high performance এর অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার উন্নতি করে একজন নির্বাহী বা কর্মী কর্মক্ষেত্রে অনেক অন্যদের থেকে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারেন নিন্মলিখিত উপায়েঃ

  • কাস্টমারের প্রয়োজন সম্পর্কে পূর্বানুমান, শনাক্তকরণ ও তা মেটানোর ক্ষমতা;
  • অন্যের অনুভূতি সম্পর্কে স্বজ্ঞামূলক চেতনা এবং তা বুঝার ক্ষমতা;
  • অন্যদের বেড়ে উঠা আর পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা;
  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে প্রত্যয়ী কৌশল ও উপায়সমূহের কার্যকর ব্যবহার;
  • অন্যদের বুঝার জন্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য বার্তা বিনিময়;
  • আপস-আলোচনা এবং দ্বন্দ্ব নিরসনকরণ;
  • ব্যবসা সাফল্যের জন্য সহায়ক সম্পর্কের লালন;

সম্মীলিত লক্ষ্য অর্জনে দলীয় বোধে কাজ করা। বিশেষভাবে, ঊর্ধ্বতন নির্বাহীগণের উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা থাকা প্রয়োজন বেশি। কারণ তাঁরা প্রতিষ্ঠানের বাইরে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন, নানা জনের সাথে মেলামেশা করতে হয়, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাইরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে থাকেন এবং কর্মীদের মনোবল উঁচুতে রাখার ব্যাপারে দায়িত্বশীল। অন্যদের বুঝার ও উপলব্ধি করার ক্ষমতাসম্পন্ন ঊর্ধ্বতন নির্বাহীগণ তাঁদের সহকর্মীদের প্রয়োজন বুঝতে পারেন এবং সেমতে যথার্থ ফিডব্যাক দিতে পারেন। একইভাবে, কাজের ধরন ও পর্যায় ভেদে বিভিন্ন ধরনের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন হয়ে থাকে।

ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্টদের কিছু বৈশিষ্ট্য

অন্য যেকোনো দক্ষতার মতো ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্স এর দক্ষতাও অনুশীলনের মাধ্যমে শাণিত করা যায়। তবে এমনটাও হতে পারে যে এটি কি তা না বুঝেই সহজাত ভাবে আপনি উচ্চ ‘ই আই’ সম্পন্ন। নিচে উল্লিখিত ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্ট ব্যক্তিদের অভ্যাসগুলো খেয়াল করুন। আপনার অভ্যাসের সাথে কি মিল খুঁজে পাচ্ছেন?

১। তারা অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকেন

উচ্চ ‘ই কিউ’ সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজেকে জিজ্ঞেস করেন ‘আমি এমন অনুভব করছি কেন?’, ‘আমি এমনটা করলাম কেন?’ এ সকল প্রশ্নের মাধ্যমেই মূলত ‘ই আই’ এর শুরু। প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মাধ্যমে একজন তার প্রতিক্রিয়াশীল অনুভূতিগুলোর বিষয়ে সচেতন হন এবং একে ইতিবাচক দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।

২। তারা অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে আগ্রহী হন

তারা জানেন যে তিনি নিজেকে বা নিজের কাজকে যে দৃষ্টিতে দেখেন অন্যরা সে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে না। তাই তারা ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেমনই হোক না কেন অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে জানতে আগ্রহী হন।

৩। তারা সঠিক সময়ে বিরতি দিতে জানেন

হুট করে কোনো কথা বলতে গিয়ে বা কোনো কিছু করতে গিয়ে থেমে একটু ভেবে নেয়া, বিষয়টি সহজ মনে হলেও আসলে ততটা সহজ নয়। তবে এ একটুখানি ভেবে নেয়া আপনাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে অনেক সমস্যা থেকে, টিকিয়ে রাখতে পারে অনেক সম্পর্ককে, এমনকি আপনি হয়ে উঠতে পারেন আগের চেয়ে ভাল কর্মীও। ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্ট ব্যক্তিরা সঠিক সময়ে এ বিরতিটি দিতে পারেন।

৪। তারা অন্যের অবস্থান থেকে ভাবার চেষ্টা করেন

কোনো বিষয়ে কাউকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার পূর্বে উচ্চ ‘ই আই’ সম্পন্ন মানুষেরা ঐ ব্যক্তির অবস্থান থেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। সে কেন এমনটা করল? তার এমন প্রতিক্রিয়ার পেছনে কী কাজ করছে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মাধ্যমে তারা সবার মধ্যে একধরণের মিলবন্ধন খুঁজে পান।

৫। ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্ট ব্যক্তিরা সমালোচনা গ্রহণ করতে পারেন

নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত কে-ইবা শুনতে চায়! তবে ‘ই আই’ সম্পন্ন ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন সমালোচনা ঠিক ভদ্র ভাবে না আসলেও তার মধ্যেও কিছু সত্যতা লুকিয়ে থাকে। তাই তারা সমালোচনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও সমালোচনা থেকে অন্যরা কিভাবে চিন্তা করে তাও বুঝতে পারেন তারা।

৬। অন্যদের মনোভাবও গুরুত্ব পায় তাদের কাছে

কোনো একজন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তারা নিজের অজান্তেই ঐ ব্যক্তিকে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। এর ফলে তাদের কথাগুলি অন্যদের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে তারা তা বুঝতে পারেন। তাই তারা কী বলছেন এর পাশাপাশি কিভাবে বলছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে তাদের কাছে।

৭। তারা নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চান

নিজের ভুলগুলি স্বীকার করে আবার তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কাজটি সহজ না। কিন্তু ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্ট ব্যক্তিরা নিজেদের বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের ভুলগুলো ধরতে পারেন এবং ‘আমি দুঃখিত’ বা ‘আমি ক্ষমা প্রার্থী’ এ শব্দগুলোর ক্ষমতা সম্পর্কেও তারা জ্ঞাত তাই ক্ষমা প্রার্থনা করতে দ্বিধা করেন না।

৮। তারা ক্ষমা করে দেন

তারা বুঝতে পারেন যে কেউই আসলে নিখুঁত নয়। তাই ক্ষমা করতে না চাওয়া আসলে একটি ক্ষতকে নিরাময় হওয়ার সুযোগ না দেয়ার মতো। যখন দোষী ব্যক্তি তার জীবনে এগিয়ে চলছে, তখন অযথা অসন্তোষ ফুঁসে না রেখে ক্ষমা করার মাধ্যমে তারা নিজেদেরও এগিয়ে চলার সুযোগ করে দেন।

৯। তারা তাদের চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন

প্রচলিত কথায় আছে, “একটা পাখিকে হুট করে আপনার মাথায় এসে বসার থেকে হয়তো আপনি থামাতে পারবেন না, কিন্তু আপনার মাথায় বসে বাসা বানানোর থেকে তো থামাতে পারেন!”

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্ট ব্যক্তিরা এটি করার চেষ্টা করেন। কোনো বাজে পরিস্থিতিতে সহজাত কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানোর থেকে হয়তো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। কিন্তু এর পরবর্তী বিষয়গুলো তারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তারা ঠিক করেন যে তাদের চিন্তাগুলো কোনদিকে ফোকাস করবেন। তারা সবধরনের নেতিবাচক অনুভূতি ঝেড়ে ফেলে নিজেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

১০। তারা কাউকে বিচার করেন না

কারো সম্পর্কে ভালভাবে না জেনে, পরিস্থিতি, প্রসঙ্গ ইত্যাদি বিশ্লেষণ না করে কাউকে বিচার করে ফেলা বা কোনো আখ্যা দিয়ে ফেলা খুবই বাজে অভ্যাস। কিন্তু ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্টরা এ কাজটি কখনোই করেন না। তারা মানুষকে জানেন, বিশ্লেষণ করেন কিন্তু কারো উপর কোনো লেভেল এঁটে দেন না কখনোই। তারা জানেন যে, একজন মানুষের একটা খারাপ দিন এমনকি একটা খারাপ বছরও যেতে পারে।

অন্য সব দক্ষতার মতো ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্সকেও নৈতিক, অনৈতিক দুই ভাবেই ব্যাবহার করা যায়। এর মাধ্যমে আমরা যেমন মুক্তি পেতে পারি অনেক নেতিবাচক অনুভূতি থেকে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে করতে পারি অনেক অর্জন, তেমনি অনেকে এ দক্ষতার মাধ্যমে অন্যকে অনেক নেতিবাচক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যও প্রভাবিত করতে পারে। তাই অর্জন করতে হবে এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধের দক্ষতাও।

আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনি যত বেশি EQ এর অধিকারী হবেন তত আপনার টিম লিডার হিসেবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদের কাজ করতে প্রভাবিত করা এবং অনুপ্রাণিত করতে আপনাকে আগিয়ে আসতে হবে। আপনি যদি আপনার টিমমেট দের মনের অবস্থা বুঝতে পারেন তবে তাদের সাথে কখন কি বলতে হবে , কখন কাকে কি বললে সে বেপারটা কিভাবে নিবে সেটাও বুঝতে পারবেন।

আপনার আসে পাশে আবস্থানরত মানুষদের আবেগ বুঝে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাটা জরুরী। এটা কর্মক্ষেত্রে যতটা জরুরী পারিবারিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি জরুরী । বিভিন্ন পারিবারিক এবং দামপত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে এই একে অপরের ছোট ছোট আবেগ জিনিত কনফ্লিক্টের কারনে ।হয়তো আপনি কারো সাথে হঠাৎ রাগ দেখিয়ে ফেললেন ,হতে পারে সে আপনার বন্ধু , অধীনস্থ কেউ বা পরিবারের কেউ । একটু পর অবশ্যই আপনাকে তার সাথে ভালভাবে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে সরি বলতে হবে। কিছুতেই ইগোর কারনে পরিস্থিতি এমন রেখে দেয়া যাবেনা ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top